পর্ব- ১
নারী কর্মক্ষেত্রে
তাঁরা কি সত্যিই হেরে যায়, নাকি আমরা তাঁদের হারিয়ে ফেলি?
স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা লক্ষ নারীর অদেখা বাস্তবতা, সংগ্রাম, সম্ভাবনা, সাফল্য এবং মাঝপথে হারিয়ে যাওয়া নেতৃত্বের অপ্রকাশিত গল্প
নারী কি সত্যিই ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়, নাকি আমরা তাঁদের হারিয়ে ফেলি? “বিশ বছর আগে যেসব তরুণীকে আমি কর্মজীবন শুরু করতে দেখেছিলাম, তাঁদের অনেককেই আজ নেতৃত্বের টেবিলে দেখার কথা ছিল। কিন্তু তাঁদের অনেকেই সেখানে নেই।” এই অনুপস্থিতিই আমাকে বছরের পর বছর একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি হাজারো মানুষের নিয়োগ, পদোন্নতি, নেতৃত্বে উত্তরণ এবং ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের গল্পের সাক্ষী হয়েছি। কিন্তু যতবার নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ের দিকে তাকিয়েছি, ততবার মনে হয়েছে আমরা যেন কোথাও কিছু হারিয়ে ফেলছি।
প্রতি বছর দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অসংখ্য মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী এবং উচ্চাভিলাষী তরুণী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। তাঁরা আসেন স্বপ্ন নিয়ে, নিজের পরিচয় গড়ার আকাক্সক্ষা নিয়ে এবং পরিবর্তন আনার সাহস নিয়ে। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি, ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি কিংবা ফিউচার বা ইয়ং লিডারস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম -এ তাঁরা পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের জায়গা করে নেন। সেদিন তাঁদের দেখে মনে হয় এরাই ভবিষ্যতের নেতা। কিন্তু দশ, পনেরো কিংবা বিশ বছর পরে প্রশ্নটা ফিরে আসে তাঁরা কোথায়?
বাংলাদেশে নারীর কর্মসংস্থান- কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।
উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এন্ট্রি-লেভেল ও গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি প্রোগ্রাম -এ নারীদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক হলেও সিনিয়র লিডারশিপ ও বোর্ড পর্যায়ে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত।
আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী নারীদের নেতৃত্বে পৌঁছানোর অন্যতম বড় বাধা তৈরি হয় কর্মজীবনের প্রথম ব্যবস্থাপনাগত পদে উত্তরণের সময়, যাকে ম্যাকেন্সি “ব্রোকেন রাঙ” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তাঁরা কোথায় হারিয়ে যান?
আমার কর্মজীবনে অসংখ্য নারীকে দেখেছি, যাঁরা তাঁদের ব্যাচের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সদস্যদের মধ্যে ছিলেন। তাঁরা ছিলেন মেধাবী, পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা তাঁদের পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে বেশি প্রস্তুত ছিলেন। তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অনেককে আর নেতৃত্বের পথে দেখা যায় না। তাঁরা ব্যর্থ ছিলেন না। অযোগ্যও ছিলেন না। তাঁরা চেষ্টা করেননি এমনও নয়। তবুও তাঁরা হারিয়ে গেছেন। আর সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো আমরা এই হারিয়ে যাওয়াকে প্রায়ই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিই।
একটি পরিচিত গল্প
ফিউচার লিডারস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম -এর মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুবাদে কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে পাঁচ শতাধিক মেধাবী তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তাঁদের মধ্যে একজন অত্যন্ত মেধাবী তরুণ নারী সহকর্মীর কথা আজও আমার মনে পড়ে। তিনি ছিলেন তাঁর ব্যাচের অন্যতম সেরা পারফর্মার। নেতৃত্বের সম্ভাবনা ছিল অসাধারণ। দ্রুত পদোন্নতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব গুণই তাঁর মধ্যে ছিল। তারপর বিয়ে হলো। কিছুদিন পর মাতৃত্ব। জীবনের নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকাও বদলাতে শুরু করল। যে মানুষটি একসময় নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সবসময় প্রস্তুত থাকতেন, তিনি ধীরে ধীরে কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন।
প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় বের করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ল। গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ-চাপের বিভাগে কাজ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এমন একটি পোস্টিং বেছে নিতে চাইলেন, যেখানে কর্মস্থল বাসার কাছাকাছি এবং পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করা তুলনামূলকভাবে সহজ। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ কমে গেল। পদোন্নতির প্রতিযোগিতায় নিজেকে আগের মতো আর দেখলেন না। একসময় যে কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন, পারফরম্যান্স রেটিং কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার আলোচনা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে শুরু করল। উৎকর্ষ অর্জনের আকাক্সক্ষার জায়গায় যেন এক ধরনের সমঝোতা এসে বসলো। মূল্যায়নে অসাধারণ না হলেও চলবে, প্রত্যাশার চেয়ে একটু কম হলেও সমস্যা নেই এমন এক মানসিক অবস্থার দিকে তিনি অজান্তেই এগিয়ে গেলেন। কয়েক বছর পর তিনি এখনও প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। তাঁর কর্মদক্ষতা নিয়েও কোনো প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু সেই উচ্চাকাক্সক্ষী তরুণীটি যিনি একসময় তাঁর ব্যাচের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সদস্যদের একজন ছিলেন এবং নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখতেন ধীরে ধীরে যেন আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। তিনি চাকরি ছাড়েননি। কিন্তু তাঁর স্বপ্নটি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে গিয়েছিল। এই গল্প আসলে একজন মানুষের নয়। বিভিন্ন নাম, ভিন্ন প্রেক্ষাপট এবং ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমি এই গল্পের অসংখ্য সংস্করণ দেখেছি।
আর প্রতিবারই আমার মনে হয়েছে আমরা হয়তো একজন কর্মীকে হারাইনি, কিন্তু একজন সম্ভাব্য নেতাকে হারিয়েছি।
নেতৃত্বের টেবিলে নারীরা কোথায়?
বাংলাদেশে নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন আমাদের সৎভাবে করতে হবে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সংখ্যা বাড়লেও নেতৃত্বের পর্যায়ে সেই নারীরা কোথায়? কেন গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি প্রোগ্রাম -এ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী থাকলেও বোর্ডরুম -এ তাঁদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যায়? কেন মিড-ক্যারিয়ার পর্যায়ে এসে অসংখ্য মেধাবী নারী তাঁদের গতি হারিয়ে ফেলেন? আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, সমস্যার শুরু বোর্ডরুম -এ নয়। সমস্যার শুরু অনেক আগে। ম্যাকেন্সি -এর “ব্রোকেন রাঙ” গবেষণা দেখায়, কর্মজীবনের প্রথম ব্যবস্থাপনাগত পদে পদোন্নতির পর্যায়েই নারীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়েন। ফলে এন্ট্রি-লেভেল -এ যে বৈচিত্র্য আমরা দেখি, নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার বড় অংশ হারিয়ে যায়।
চাকরি নয়, স্বপ্নের ক্ষয়
আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো আমরা মনে করি নারী কর্মক্ষেত্র থেকে হারিয়ে গেলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। বাস্তবে বিষয়টি অনেক সময় ভিন্ন। অনেক নারী চাকরি ছাড়েন না। তাঁরা কর্মক্ষেত্রেই থাকেন। কিন্তু একসময় পদোন্নতি চাওয়া বন্ধ করে দেন। নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেন। নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাঁরা টিকে থাকেন, কিন্তু আর উড়তে চান না। এবং সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
সমাজের অদৃশ্য বার্তা
একজন ছেলেকে ছোটবেলা থেকে বলা হয় “নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করো।” “ক্যারিয়ার গড়ো।” “বড় কিছু করো।” অন্যদিকে একজন মেয়েকে বলা হয়
“সব করতে পারো, তবে পরিবার আগে।” “সংসারই আসল।” “সন্তানের দায়িত্ব তোমার।” “ক্যারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ, তবে তারও সীমা আছে।” এই বার্তাগুলো প্রকাশ্যে বলা হোক বা না হোক, ধীরে ধীরে সেগুলো একজন নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হয়ে ওঠে।
আমাদের অদৃশ্য পক্ষপাত
একজন নতুন মা-কে আমরা জিজ্ঞেস করি “তুমি কি সবকিছু সামলাতে পারবে?” কিন্তু একজন নতুন বাবাকে কি একই প্রশ্ন করা হয়? একজন নারী রাত পর্যন্ত কাজ করলে আমরা ভাবি “পরিবার কী বলবে?” অন্যদিকে একজন পুরুষ রাত পর্যন্ত কাজ করলে বলি “কী অসাধারণ কমিটমেন্ট!” এই পার্থক্য কোনো নীতিমালায় লেখা থাকে না। এটি থাকে আমাদের চিন্তায়, আমাদের প্রত্যাশায় এবং সুযোগকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সচেতনভাবে এটি করি না। তবুও অজান্তেই নারী ও পুরুষের জন্য ভিন্ন মানদ- তৈরি হয়ে যায়। আর ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় সেই অদৃশ্য বৈষম্য, যা কোনো প্রতিবেদন বা নীতিমালায় ধরা পড়ে না, কিন্তু একজন মানুষের ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিতে পারে। পরিবর্তনের অংশীদার কারা? নারীর কর্মজীবনের অগ্রযাত্রা শুধু নারীদের একার লড়াই নয়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত আছেন পুরুষ সহকর্মী, ব্যবস্থাপক, স্বামী, পিতা, ভাই এবং নীতিনির্ধারকেরাও। কারণ বৈচিত্র্যময় নেতৃত্ব কোনো নারী ইস্যু নয়। এটি একটি নেতৃত্বগত ও ব্যবসায়িক ইস্যু।
আমরা আসলে কী হারাই
যখন একজন মেধাবী নারী কর্মক্ষেত্র থেকে সরে যান বা নিজের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেন, তখন ক্ষতিটা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়। একটি প্রতিষ্ঠান তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় অংশ হারায়। একটি দল হারায় ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। একটি শিল্পখাত হারায় দক্ষ পেশাজীবী। একটি দেশ হারায় তার সম্ভাবনার একটি অংশ। ম্যাকেন্সি গ্লোবাল ইন্সটিটিউট -এর গবেষণা দেখায়, নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অতিরিক্ত অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজন করতে পারে। অর্থাৎ এটি শুধু সমতার প্রশ্ন নয়। এটি প্রবৃদ্ধির প্রশ্ন। এটি প্রতিযোগিতার প্রশ্ন। এটি ভবিষ্যৎ অর্থনীতির প্রশ্ন।
আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
বাংলাদেশে নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন আমরা শুধু নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করব না; বরং এমন পরিবেশ গড়ে তুলব, যেখানে তাঁরা টিকে থাকতে, বিকশিত হতে এবং নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন। কারণ একজন নারীকে নিয়োগ দেওয়া সহজ। কিন্তু তাঁকে তাঁর পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সহায়তা করা অনেক বেশি কঠিন। আর সেখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কারণ প্রশ্নটি আর শুধু নারীদের নিয়ে নয়। প্রশ্নটি বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনাকে নিয়ে। আমরা কি সত্যিই নারীদের হারাচ্ছি? নাকি নিজেদের ভবিষ্যৎকেই ছোট করে ফেলছি? পরবর্তী পর্ব এ কর্মজীবনে নারীদের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবো যে বাধাগুলো আমরা দেখি, এবং যে বাধাগুলো আমরা দেখেও দেখতে চাই না। নারী কর্মক্ষেত্রে: তাঁরা কি সত্যিই হেরে যায়, নাকি আমরা তাঁদের হারিয়ে ফেলি? স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা লক্ষ নারীর অদেখা বাস্তবতা, সংগ্রাম, সম্ভাবনা, সাফল্য এবং মাঝপথে হারিয়ে যাওয়া নেতৃত্বের অপ্রকাশিত গল্প।
(চলবে)
অনুভব রহমান বাংলাদেশের করপোরেট ও ফিনটেক খাতের একজন সুপরিচিত এবং অভিজ্ঞ মানবসম্পদ (HR) পেশাদার। তিনি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেড-এর চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (CHRO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নগদ-এ যোগদানের পূর্বে তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL)-এর অর্গানাইজেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাসিটি এনহ্যান্সমেন্ট সেন্টারের প্রধান (Head) হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কর্মীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরি এবং কৌশলগত নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।