Global Header Bottom
এমটিও: ব্যাংকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি

পর্ব- ১

এমটিও: ব্যাংকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি

এমটিও: ব্যাংকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি

সেনাবাহিনীতে দুই ধরনের কোর্স রয়েছে। সর্ট কোর্স এবং লং কোর্স। লং কোর্সে যাঁরা যোগদান করেন তাঁরা সফলভাবে কোর্স সমাপ্ত করার পর সরাসরি লেফটেন্যান্ট পদে তাঁদের কর্মজীবন শুরু করেন। এদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ পরবর্তীতে মেজর, কর্নেল, মেজর জেনারেল, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এ কারণে অনেকে সেনাবাহিনীর এই পদগুলোকে ড্রিম জব মনে করেন। সরকারি চাকরিতে বিসিএস ক্যাডার তেমনি অনেকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় চাকরি। এবার আসা যাক ব্যাংক প্রসঙ্গে। অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ের কাছে ব্যাংকের চাকরির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি হলো ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার যা সংক্ষেপে এমটিও নামে পরিচিত।

কোনো কোনো ব্যাংকে এই পদটিকে বলা হয় প্রবেশনারী অফিসার বা ইয়ং লিডার। এটাকে ব্যাংকের ক্যাডার জব বলা হয়। কারণ এখান থেকেই ব্যাংকের ডিএমডি, এমডি তৈরি হয়। ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার ছাড়াও ব্যাংক আরও দুটি পদে ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ করে। এই দুটি পদের মধ্যে একটি হলো ট্রেইনি অফিসার এবং অপরটি ক্যাশ ক্যাডার। এর বাইরে অনেক ব্যাংক রিটেইল ব্যাংকিং এর আওতায় সেলস ওরিয়েন্টেড জব এর জন্যও কর্মী নিয়োগ করে।

বিভিন্ন ব্যাংক যখন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদে লোক নিয়োগ করে তখন প্রথমেই আবেদনকারীদের যোগ্যতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। আমরা সকলেই জানি যাঁর মধ্যে কোয়ালিটি থাকে তাঁকে গড়ে তোলা যায় এবং তাঁকে নিয়ে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়। কিন্তু কারও মধ্যে যদি কোয়ালিটিতে ঘাটতি থাকে তাহলে তাঁকে ইচ্ছে করলেও অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়া যায় না। ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসারদের গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি ব্যাংক সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। এদেরকে গড়ে তোলার জন্য ব্যাংকের নির্দিষ্ট একটি প্ল্যান থাকে। তাঁদেরকে জ্ঞানসমৃদ্ধ করা হয়।

ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়। তাঁদের দক্ষতা বাড়ানো হয়। নলেজ, সফট স্কিল, লিডারশিপ স্কিল সবাই তাঁদের শেখানো হয়। ব্যাংক একদিকে যেমন পদটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আবার অন্যদিকে এই পদের কর্মীদের কিভাবে গড়ে তোলবে সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার প্রথমেই চলে আসে ব্যাংক এদেরকে কিভাবে রিক্রুট করবে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন সকল ব্যাংক এমটিও পদে নিয়োগের সময় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনও অনুসরণ করা হয়। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন এমটিও পদে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই নিয়োগ পেতে হয়।

চলতি বছর আমরা ৫০ জন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ দিয়েছি। এই ৫০ জনের নিয়োগ পাওয়ার পথটি সহজ ছিল না। আমরা যোগ্য প্রার্থীদের নিকট থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। এছাড়া আমাদের ক্যারিয়ার পেজ, লিংকড-ইন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। আমাদের পদ ছিল ৫০টি। আবেদনপত্র জমা পড়েছিল ১০ হাজারেরও বেশি। কারও কারও মনে প্রশ্নের উদয় হতে পারে ৫০টি পদের বিপরীতে ১০ হাজার আবেদনপত্র তো বেশি নয়। এখানে আমাদের দুটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রথমত, এই পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে অধিকাংশ আবেদনকারী কম-বেশি ধারণা রাখে। ফলে যাঁদের প্রস্তুতি ভালো থাকে না, বা যাঁরা নিজেদেরকে যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন মনে করে না, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই আবেদন করে না। দ্বিতীয়ত, আমরা যখন এই পদের জন্য আবেদনপত্র আহবান করি তখন যোগ্যতার কিছু শর্তাবলী উল্লেখ করি। এই দুটি কারণে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটা বাছাই হয়ে যায়। এরপর আমরা যখন আবেদনপত্রগুলো বাছাই করি সেখানে আরেক দফা যাচাই-বাছাই হয়। এখান থেকে আমরা মাত্র ২ হাজার আবেদনকারীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ডেকেছিলাম।

১০ হাজার থেকে ৮ হাজার আবেদনপত্র বাদ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে। যেমন, আমরা আবেদনকারীর উচ্চশিক্ষা লাভ করার বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছি। যে বিষয়গুলো ব্যাংক ইন্ডাস্ট্রির সাথে কোনোভাবেই মানানসই নয় তাঁদের আবেদনপত্র বাদ পড়েছে। যাঁদের সিজিপিএ বেশ ভালো তাঁদেরটা গ্রহণ করেছি। যাঁদের কম তাঁদেরটা বাদ দিয়েছি। যাঁদের সিভিতে অপর্যাপ্ত তথ্য ছিল তাঁদেরটা বাদ দিয়েছি। যাঁরা সিভিতে ভুল তথ্য দিয়েছে তাঁরাও বাদ পড়েছে। বিশ^বিদ্যালয়গুলোর রেটিং বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করে আমরা টপ ২ হাজার সিভি বাছাই করতে পেরেছিলাম লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য।

লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার পর ওই ২ হাজার পরীক্ষার্থীর খাতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখান থেকে আমরা বাছাই করেছিলাম প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে টপ ২০০ আবেদনকারীকে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ নম্বর যে পেয়েছে ওই নম্বর থেকে ক্রমান্বয়ে ২০০ পর্যন্ত আসতে যে নম্বরের প্রয়োজন ছিল ওটাই ছিল আমাদের বেঞ্চমার্ক। এরপর এই ২০০ পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা আমরা নিয়েছি। মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে আমাদের ব্যাংকের টপ ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তারা ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিই বলে দেয় এদের বাছাই প্রক্রিয়াকে ব্যাংক কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি এভাবে বিবেচনা করার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এরাই হবে আমাদের দেশের আগামী দিনের যোগ্যতম ব্যাংকার। এদের হাতেই থাকবে ব্যাংকের নেতৃত্ব।

(চলবে)

ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর: এবি ব্যাংক পিএলসি । সাবেক সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট । এবং ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer